Showing posts with label জীবনী. Show all posts
Showing posts with label জীবনী. Show all posts

Thursday, 6 December 2012

বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু


স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু
(জন্ম নভেম্বর ৩০, ১৮৫৮ – মৃত্যু নভেম্বর ২৩, ১৯৩৭) একজন সফল বাঙালি বিজ্ঞানী। তার গবেষণার প্রধান দিক ছিল উদ্ভিদ ও তড়িৎ চৌম্বক। তার আবিষ্কারের মধ্যে উদ্ভিদের বৃদ্ধিমাপক যন্ত্র ক্রেস্কোগ্রাফ, উদ্ভিদের দেহের উত্তেজনার বেগ নিরুপক সমতল তরুলিপি যন্ত্র রিজোনাষ্ট রেকর্ডার অন্যতম। জগদীশ চন্দ্রের স্ত্রী অবলা বসু ছিলেন একজন বিদূষী ডাক্তার ও শিক্ষাবিদ। জগদীশ চন্দ্র ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বাংলা ভাষায় ছোটদের বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য জগদীশ চন্দ্র 'অব্যক্ত' নামে একটা বই লিখেছিলেন।
তিনি গাছের প্রাণ এবং মার্কনির আগেই রেডিও আবিষ্কার করেছিলেন বলে বাঙালি মহলে একটি ধারণা প্রচলিত আছে। প্রথম ধারণাটি একেবারেই ভুল। গাছের প্রাণ সম্পর্কে অনেক প্রাচীনকাল থেকেই পণ্ডিতেরা সম্পূর্ণ নিঃসংশয় ছিলেন। জগদীশ চন্দ্র কেবল প্রচুর পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, উদ্ভিদ এ প্রাণী জীবনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে; এক কথায় উদ্ভিদজীবন প্রাণীজীবনের ছায়া মাত্র। দ্বিতীয় ধারণাটিও যে অর্থ বলা হয় সে অর্থে সঠিক নয়। মার্কনি আধুনিক ছোট বা শর্ট তরঙ্গ মাপের বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে দূরে বেতার সংকেত পাঠাতে সফল হয়েছিলেন যার ফল হল রেডিও। কিন্তু জগদীশ চন্দ্র কাজ করেছিলেন অতিক্ষুদ্র তথা (micro wave) নিয়ে যার প্রয়োগ  টেলিভিশন এবং রাডার যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেখছি।
জীবনী
@@ প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা
জগদীশ চন্দ্র বসু বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে ১৮৫৮ সালের ৩০শে নভেম্বর তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবারের প্রকৃত বাসস্থান ছিল বর্তমান বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত বিক্রমপুর নামক স্থানের রাঢ়িখাল গ্রামে। তার বাবা ভগবান চন্দ্র বসু তখন ফরিদপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। এর আগে তিনি ১৮৫৩ থেকে ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভগবান চন্দ্রই এই স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন। পরবর্তিতে তিনি বর্ধমান ও অন্যান্য কিছু অঞ্চলের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ব্রাহ্ম সমাজের একজন বিশিষ্ট নেতা ছিলেন। ইংরেজ সরকারের অধীনে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও তিনি আর সবার মত নিজের ছেলেকে ইংরেজি স্কুলে ভর্তি করাননি। জগদীশ চন্দ্রের প্রথম স্কুল ছিল ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। বাংলা স্কুলে ভর্তি করানোর ব্যাপারে জগদীশ চন্দ্রের নিজস্ব যুক্তি ছিল। তিনি মনে করতেন ইংরেজি শেখার আগে এদেশীয় ছেলেমেয়েদের মাতৃভাষা আয়ত্ব করা উচিত। বাংলা স্কুলে পড়ার ব্যাপারটি জগদীশ চন্দ্রের জীবনে যেমন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছে তেমনি বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করতেও সাহায্য করেছে। এর প্রমাণ বাংলা ভাষায় রচিত জগদীশের বিজ্ঞান প্রবন্ধগুলো। ভাষার প্রতি বিশেষ মমত্ববোধ ছাড়াও ভগবান চন্দ্র চেয়েছিলেন তার পুত্র দেশের আপামর জনসাধারণের সাথে মিলেমিশে মানুষ হোক এবং তার মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হোক। তার এই সিদ্ধান্ত কখনও পরিবর্তিত হয়নি। প্রথম বাংলা স্কুলে অধ্যয় সম্বন্ধে জগদীশ ১৯১৫ সালে অনুষ্ঠীত বিক্রমপুর সম্মেলনে বলেছিলেন:
At that time, sending children to English schools was an aristocratic status symbol. In the vernacular school, to which I was sent, the son of the Muslim attendant of my father sat on my right side, and the son of a fisherman sat on my left. They were my playmates. I listened spellbound to their stories of birds, animals and aquatic creatures. Perhaps these stories created in my mind a keen interest in investigating the workings of Nature. When I returned home from
school accompanied by my school fellows, my mother welcomed and fed all of us without discrimination. Although she an orthodox old fashioned lady, she never considered herself guilty of impiety by treating these ‘untouchables’ as her own children. It was because of my childhood friendship with them that I could never feel that there were ‘creatures’ who might be labelled ‘low-caste’, I never realised that there existed a ‘problem’ common to the two communities, Hindus and Muslims.
জগদীশ কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বিএ পাশ করার পর ইংল্যান্ডে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল আইসিএস পরীক্ষায় পাশ করে দেশে এসে জজ-ম্যাজিস্ট্রেট হওয়া। কিন্তু ভগবান চন্দ্র স্বভাবতই এতে রাজী হননি। ছেলে বিদেশে যাক তা তিনি ঠিকই চেয়েছিলেন, তবে আইসিএস দিতে নয়, আধুনিক কৃষিবিদ্যা শিখে দেশীয় কৃষিকাজের উন্নতি সাধনের জন্য।
বাবার ইচ্ছা ও তার আগ্রহের মধ্যে টানাপোড়েনের শেষ পর্যায়ে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়বেন বলে স্থির করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান পাঠের উদ্দেশ্যেই লন্ডনের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান ১৮৮০ সালে। কিন্তু অসুস্থতার কারণে বেশিদিন এই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। অচিরেই চিকিৎসাবিজ্ঞান পাঠ ছেগে দিয়ে কেমব্রিজের ক্রাইস্ট কলেজে ভর্তি হন। এখান থেকে ট্রাইপস পাশ করেন। এর পরপরই বা প্রায় একই সাথে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি পাঠ সম্পন্ন করেন। বিদেশে অধ্যয়ন শেষে দেশে ফিরে আসেন ১৮৮৫ সালে। এসে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অস্থায়ী অধ্যাপক পদে যোগ দেন। তার গবেষণার সূত্রপাতও এখান থেকেই। তার মহান বৈজ্ঞানিক গবেষণাসমূহের সূতিকাগার হিসেবে এই কলেজকে আখ্যায়িত করা যায়। আমরা যে জগদীশ চন্দ্রের সাথে পরিচিত তার জন্ম এখান থেকেই।
প্রেসিডেন্সি কলেজে যোগদান
প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনার চাকুরিটি তিনি পেয়েছিলেন বড়লাট বাহাদুরকে ধরাধরি করে। কিন্তু একে তো এটি ছিল অস্থায়ী তার উপর ভারতীয় হওয়ায় সেখানে তার বেতন নির্ধারণ করা হল ইউরোপীয় অধ্যাপকদের বেতনের অর্ধেক। এই অন্যায় বৈষম্যের প্রতিবাদ করেছিলেন জগদীশ। দীর্ঘকাল তিনি কোন বেতন না নিয়েই শিক্ষকতা করে যান এবং অনেক ইংরেজ অধ্যাপকদের থেকে অধিক দক্ষতা প্রদর্শনে সমর্থ হন। এতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে নতি স্বীকার করে। তার তিন বছরের বকেয়া মাইনে পরিশোধ করে দেয়া হয় এবং এর সাথে তার চাকুরিটিও স্থায়ী হয়ে যায়। তখন থেকেই ইউরোপীয় ও ভারতীয় অধ্যাপকদের বেতনের বৈষম্য দূরীভূত হয়। ইউরোপীয় শিক্ষকদের অনেকেই মনে করতেন ভারতীয়রা বিজ্ঞান শিক্ষাদান এবং গবেষণা কাজের উপযুক্ত নয়। জগদীশ তাদের এই ধারণা ভুল প্রমাণিত করেন। তার সফলতার প্রমাণ পাওয়া যায় তার হাতে গড়ে উঠা একদল কৃতী শিক্ষার্থী যাদের মধ্যে আছেন: সত্যেন্দ্রনাথ বসু, দেবেন্দ্রমোহন বসু, মেঘনাদ সাহা, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ, জ্ঞান মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনার প্রথম আঠারো মাসে জগদীশ যে সকল গবেষণা কাজ সম্পন্ন করেছিলেন তা লন্ডনের রয়েল সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত হয়। এই গবেষণা পত্রগুলোর সূত্র ধরেই লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৯৬ সালের মে মাসে তাকে ডিএসসি ডিগ্রী প্রদান করে। এই গবেষণাগুলো একটু ভিন্ন আঙ্গিকে বিচার করতে হবে। প্রতিদিন নিয়মিত ৪ ঘন্টা শিক্ষকতার পর যেটুকু সময় পেতেন তখন তিনি এই গবেষণার কাজ করতেন। তার উপর প্রেসিডেন্সি কলেজে কোন উন্নতমানের গবেষণাগার ছিলনা, অর্থ সংকটও ছিল প্রকট। সীমিত ব্যয়ে স্থানীয় মিস্ত্রীদেরকে শিখিয়ে পড়িয়ে তিনি পরীক্ষণের জন্য উপকরণ প্রস্তুত করতেন। তার এই গবেষণা কর্মগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করেই ইংল্যান্ডের লিভারপুলে বক্তৃতা দেয়ার জন্য ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এই বক্তৃতার সাফল্যের পর তিনি বহু স্থান থেকে বক্তৃতার নিমন্ত্রণ পান। এর মধ্যে ছিল রয়েল ইন্সটিটিউশন, ফ্রান্স এবং জার্মানি। সফল বক্তৃতা শেষে ১৮৯৮ সালের এপ্রিল মাসে তিনি সস্ত্রীক দেশে ফিরে এসেছিলেন।
@@বিয়ে
১৮৮৭ সালে জগদীশচন্দ্র বসুর সাথে অবলার বিয়ে হয়। অবলা ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের বিখ্যাত সংস্কারক দুর্গা মোহন দাসের কন্যা। বিয়ের আগে অবলা বসু কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে চাইলেও তাকে ভর্তি হতে দেয়া হয়নি, কারণ সেখানে তখন মেয়েদের পড়ানো নিষেধ ছিল। ১৮৮২ সালে বঙ্গ সরকারের বৃত্তি নিয়ে অবলা মাদ্রাজ (বর্তমান চেন্নাই) যান পড়াশোনার উদ্দেশ্যে। সেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়ন শুরু করলেও অসুস্থতার কারণে আবার ফিরে আসতে বাধ্য হন। তাদের বিয়ের সময় জগদীশচন্দ্র বসু আর্থিক কষ্টের মধ্যে ছিলেন। এর মধ্যে আবার তিনি তখন কলেজ থেকে বেতন নিতেন না। এছাড়া জগদীশের বাবার কিছু ঋণ ছিল যার কারণে তার পরিবারকে পথে বসতে হয়। এর মধ্য থেকে অবলা ও জগদীশ অনেক কষ্টে বেরিয়ে আসেন এবং সব ঋণ পরিশোধ করতে সমর্থ হন। সব ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কিছুদিন মাত্র বসুর পিতা-মাতা জীবিত ছিলেন।
@@গবেষণা কর্ম
অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ সৃষ্টি ও প্রেরণ
জগদীশের আঠারো মাসের সেই গবেষণার মধ্যে মুখ্য ছিল অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা। ১৮৯৫ সালে তিনি অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ সৃষ্টি এবং কোন তার ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তা প্রেরণে সফলতা পান। ১৮৮৭ সালে বিজ্ঞনী হের্‌ৎস প্রতক্ষভাবে বৈদ্যুততত তরঙ্গের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। এ নিয়ে ররও গবেষণা করার জন্য তিনি চেষ্টা করছিলেন যদিও শেষ করার আগেই তিনি মারা যান। জগদীশচন্দ্র তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে সর্বপ্রথম প্রায় ৫ মিলিমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট তরঙ্গ তৈরী করেন। এ ধরণের তরঙ্গকেই বলা হয়ে অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ বা মাউক্রোওয়েভ। আধুনিক রাডার, টেলিভিশন এবং মহাকাশ যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই তরঙ্গের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মূলত এর মাধ্যমেই বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ তথ্যের আদান প্রদান ঘটে থাকে।
@@উদ্ভিদ ও প্রাণী জীবনের সাদৃশ্য
বক্তৃতাসমূহ
ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশনে বক্তৃতা, লিভারপুল
ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশনে তার বক্তৃতার বিষয় ছিল "অন ইলেকট্রিক ওয়েভ্‌স"। মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে করা পরীক্ষণগুলোর উপর ভিত্তি করেই তিনি বক্তৃতা করেন যা ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের চমৎকৃত করে। অতিশীপর বৃদ্ধ বিজ্ঞানী লর্ড কেলভিন বক্তৃতা শোনার পর লাঠিতে ভর দিয়ে এসে জগদীশের স্ত্রী অবলা বসুকে তার স্বামীর সফলতার জন্য অভিবাদন জানান। জগদীশ এবং অবলা দুজনকেই তিনি তার বাসায় নিমন্ত্রণ করেছিলেন। এই বিষয়ের উপর বিখ্যাত সাময়িকী "টাইম্‌স"-এ একটি রিপোর্ট ছাপা হয় যাতে বলা হয়, "এ বছর ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশনের সম্মিলনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল বিদ্যুৎ-তরঙ্গ সম্পর্কে অধ্যাপক বসুর বক্তৃতা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, কেমব্রিজের এম.এ. এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর অফ সাইন্স এই বিজ্ঞানী বিদ্যুৎরশ্মির সমাবর্তন সম্পর্কে যে মৌলিক গবেষণা করেছেন, তার প্রতি ইউরোপীয় বিজ্ঞানী মহলে আগ্রহ জন্মেছে। রয়্যাল সোসাইটি বিদ্যুৎরশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও প্রতিসরাঙ্ক নির্ণয়ের গবেষণাপত্রের ভূয়সী প্রশংসা করেছে।" এই বক্তৃতা বিষয়ে পারসন্‌স ম্যাগাজিন লিখেছিল:
বিদেশী আক্রমণে ও অন্তর্দ্বন্দ্বে বহুবছর ধরে ভারতে জ্ঞানের অগ্রগতি ব্যাহত হয়ে চলেছিল... প্রবল বাধাবিপত্তির মধ্যে গবেষণা চালিয়ে একজন ভারতীয় অধ্যাপক আধুনিক বিজ্ঞানের জগতেও বিশেষ উল্লেখযোগ্য কাজের নজির রেখেছেন। বিদ্যুৎরশ্মি বিষয়ে তার গবেষণাপত্র ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশনে পঠিত হবার সময় তা ইউরোপীয় জ্ঞানীগুণী মহলে প্রবল আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। তাঁর ধৈর্য ও অসাধারণ শক্তির প্রশংসা করতেই হয়- অন্তত যখন ভাবি যে তিনি মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে বিদ্যুতের মতো অত্যন্ত দুরূহ বিভাগের ছয়টি উল্লেখযোগ্য গবেষণা শেষ করেছেন।
রয়্যাল ইন্সটিটিউশনে সান্ধ্য বক্তৃতা
লরিভারপুলে বক্তৃতার পর তার আরও সাফল্য আসে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল রয়্যাল ইন্সটিটিউশনে সান্ধ্য বক্তৃতা দেয়ার নিমন্ত্রণ। এই বক্তৃতাটি আনুষ্ঠানিকভাবে "ফ্রাইডে ইভনিং ডিসকোর্স" নামে সুপরিচিত ছিল। এই ডিসকোর্সগুলোতে আমন্ত্রিত হতেন একেবারে প্রথম সারির কোন আবিষ্কারক। সে হিসেবে এটি জগদীশচন্দ্রের জন্য একটি দুর্লভ সম্মাননা ছিল। ১৮৯৮ সালের জানুয়ারি ১৯ তারিখে প্রদত্ত তার এই বক্তৃতার বিষয় ছিল "অন দ্য পোলারাইজেশন অফ ইলেকট্রিক রেইস" তথা বিদ্যুৎরশ্মির সমাবর্তন। এই বক্তৃতার সফলতা ছিল সবচেয়ে বেশি। বায়ুতে উপস্থিত বেশ কিছু বিরল গ্যাসের আবিষ্কারক হিসেবে খ্যাত বিজ্ঞানী লর্ড র‌্যালে তার বক্তৃতা শুনে এবং পরীক্ষাগুলো দেখে এতোটাই বিস্মিত হয়েছিলেন তার কাছে সবকিছু অলৌকিক মনে হয়েছিল। তিনি এ সম্পর্কে বলেছিলেন, "এমন নির্ভুল পরীক্ষা এর আগে কখনও দেখিনি- এ যেন মায়াজাল"। এই বক্তৃতার সূত্র ধরেই বিজ্ঞানী জেম্‌স ডিউয়ার-এর সাথে জগদীশচন্দ্রের বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়। ডিউয়ার গ্যাসের তরলীকরণের পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য বিখ্যাত। এই বক্তৃতা সম্বন্ধে "স্পেক্টেটর" পত্রিকায় লিখা হয়েছিল, "একজন খাঁটি বাঙালি লন্ডনে সমাগত, চমৎকৃত ইউরোপীয় বিজ্ঞানীমণ্ডলীর সামনে দাঁড়িয়ে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অত্যন্ত দুরূহ বিষয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন- এ দৃশ্য অভিনব।"
এই বক্তৃতার পর ফ্রান্স এবং জার্মানি থেকে আমন্ত্রণ আসে এবং তিনি সেখানে কয়েকটি বক্তৃতা দেন। সবখানেই বিশেষ প্রশংসিত হন। বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক কর্ন তার বন্ধু হয়ে যায় এবং তিনি ফ্রান্সের বিখ্যাত বিজ্ঞান সমিতি Societe de Physeque-এর সদস্য মনোনীত হন।
সুখ্যাতি
বিজ্ঞান শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে জগদীশ চন্দ্রের সফলতার কথা কর্মজীবন অংশেই উল্লেখিত হয়েছে। এছাড়া তিনি বিজ্ঞান গবেষণায়ও প্রভূত সাফল্য অর্জন করেছিলেন যার জন্য তার সুখ্যাতি তখনই ছড়িয়ে পড়েছিল। ভারতীয়রাও বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে নিউটন-আইনস্টাইনের চেয়ে কম যায়না তিনি তা প্রমাণ করেন। জগদীশ চন্দ্র যে গ্যালিলিও-নিউটনের সমকক্ষ বিজ্ঞানী তার স্বীকৃতি দিয়েছিল লন্ডনের ডেইলি এক্সপ্রেস পত্রিকা, ১৯২৭ সালে। আর আইনস্টাইন তার সম্পর্কে নিজেই বলেছেন:
জগদীশচন্দ্র যেসব অমূল্য তথ্য পৃথিবীকে উপহার দিয়েছেন তার যে কোনটির জন্য বিজয়স্তম্ভ স্থাপন করা উচিত।
@@সম্মাননা
  • নাইটহুড, ১৯১৬
  • রয়েল সোসাইটির ফেলো, ১৯২০
  • ভিয়েনা একাডেমি অফ সাইন্স-এর সদস্য, ১৯২৮
  • ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেস-এর ১৪তম অধিবেশনের সভাপতি, ১৯২৭
  • লিগ অফ ন্যাশন্‌স কমিটি ফর ইনটেলেকচুয়াল কো-অপারেশন -এর সদস্য
  • ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ সাইন্সেস অফ ইন্ডিয়া-এর প্রতিষাঠাতা ফেলো। এর বর্তমান নাম ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সাইন্স একাডেমি।
@@রচনাবলী
  • Responses in the Living and Non-living (১৯০২)
  • Plant Responses as a Means of Physiological Investigations (১৯০৬)
  • Comparative Electrophysiology (১৯০৭)
  • Physiology of the Asent of Sap (১৯২৩)
  • Physiology of Photosynthesis (১৯২৪)
  • Nervous Mechanism of Plants (১৯২৫)
  • Collected Physical Papers (১৯২৭)
  • Motor Mechanism of Plants (১৯২৮)
  • Growth and Tropic Movement in Plants (১৯২৯)

আজ আমি মাইকেল ফ্যারাডে বলছি



সবাই যেমন বই খাতা নিয়ে স্কুলে যায়...পড়াশুোনা করে...কত অজানাকে জানে..
আমি কেন তাদের মতো লেখাপড়া শিখব না??,স্কুলে যাব না..??
ঠিক এই প্রশ্ন জেগেছিল আমার কচি বয়সে..শৈশব কালে..এই প্রশ্ন করেছিলাম আমার মা কে..
মা তখন কোন উওর দিতে পারেন নি...
বাবাও কাজের অছিলায় মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিলেন...
কিন্তু আমার জেদ আরোও বেড়ে গেলো....আমি জোর করে বললাম..আমি ওদের মতো স্কুলে যাবো..বই পড়ব...
কিন্তু বৃথা সেই চেষ্টা...মা বাবা এই কথাও কানে দিলেন না...

কিন্তু আমি(মাইকেল ফ্যারাডে), আমার মা বাবাকে দোষ দিই কি করে....শিশু বায়না ধরলেই তো স্কুলে পাঠানো যায় না...স্কুলে যেতে হলে তো বই-খাতা-কলম লাগবে...
বই-খাতা-কলম কিনে লেখাপড়া চালানোর ব্যয়সাধ্য আমার পরিবারের ছিলো না..নুন আনতে পান্তাফুরোয় এই সংসারে...সব দিন খাবার জোটে না..কোন কোন দিন একবেলা খেয়ে রই..
তাই চাওয়া পাওয়ার শৈশব কাল আমার বৃথা...তাই আমার প্রশ্ন হায় অর্থ তুমি কি কেবল বড়লোকের??...হায় লেখাপড়া তুমি কি কেবল ধনবানদের?? ..আমাদের কি সেই অধিকার নেই??
আমি(মাইকেল ফ্যারাডে) এই দারিদ্রের সাথে মোকাবিলা করেই বড় হয়েছি....আমি আমার মেধা,বিচক্ষণতা ও মেহনত দিয়েই আমি পৃথিবীর মানুষের মন জয় করেছি..

"হে দারিদ্রতুমি মোরে করিয়াছ মহান 
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রিস্টের সম্মান"

********
যা...আমি(মাইকেল ফ্যারাডে) আমার পরিচয় দিতেই ভুলে গেছি...কি করব দারিদ্র সব কিছুই ভুলিয়েদেয়....

আমার জন্ম হয়েছিল লণ্ডনের এক প্রত্যন্ত গ্রামে..দিনটি ২২শে সেপ্টেম্বরসালটি ১৭৯১
আমি (মাইকেল ফ্যারাডে)অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান..অভাবের তাড়নায় স্কুলের চৌকাঠ ডিঙানো সম্ভবহয় নি..তাই আমাকে আপনারা অশিক্ষিত বললে রাগ করবো না..আমি আমার কাজের মাধ্যমেই আমার পরিচয় দেবো...

পেশায় কামার ছিলেন আমার বাবা..গরম লোহা পেটানোই আমার বাবার কাজ..কোন রকমে খাওয়া পড়ার টাকা মিলতো...বিলাসিতা তো স্বপ্নে করতাম..আমাদের কাছে স্কুল যাওয়া একটা বিলাশিতা.
মাঝে মাঝে নিজের উপর ঘেন্না ধরে যেতো..তাই আমি বাবার কাজেরই হাত লাগাই পরিবারকেসাহায্য করার জন্য..বাবাকে সাহায্য করার জন্য..
আমি (মাইকেল ফ্যারাডে)মন থেকে কামারের কাজ করতে চাইতাম না...বিশ্বকে জানার যে আমার বিপুল কৌতুহল..বাবা আমার কষ্ট বুঝতে পারলেন..
কোন রকমে একবেলা খাওয়া বন্ধ করে শেষমেষ গ্রামের প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি করে দিলেন...
কিন্তু স্কুলের বাধা ধরা কড়া শাসনে আমি (মাইকেল ফ্যারাডে)অসহ্য হয়ে পড়ি..শেষ অবধি স্কুলের পড়া ছেড়ে দিই..রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে লাগি বিশ্বকে নতুন ভাবে জানবো বলে....
আমার তখন ১৩ বছর বয়স...রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে আমি হাজির হই লণ্ডনের এক দপ্তরীরদোকান..সেখানে বই বাঁধাইয়ের কাজ হতো..সেখানে আমি দেখলাম নতুন  পুরাতন বইয়েরমিলন ক্ষেত্র..
আমার মনে আসা জানলো বিনাপয়সায় বই পড়ার..আমি বিনিত কণ্ঠে দোকানের মালিকে বললাম ..আমায় একটি কাজ দেবেন..??
দোকানের মালিকের একটে বাঁধাইয়ের ছেলের দরকার ছিল..আমি কাজ পেয়ে গেলাম...আমি সেই দিন সবথেকে খুশি হলাম..আমার বাল্যকালের সবথেকে খুশির দিন
আমি(মাইকেল ফ্যারাডে) বই বাঁধাইয়ের কাজ শিখে মালিককে চমকে দিলাম...আমি বই বাঁধাইয়ের সময়বই গুলি উলটে পালটে দেখে নিতাম..অবসর সময়ে বই পড়তাম..এবং ফাঁকে ফাঁকে ছবিও আঁকতাম..ছোটবেলায় কেনা ছবি আকতে ভালোবাসে..

একদিন আমার কাজের দোকানে একটা আকারে বড় বই এলো..বইটির নাম 'এনসাক্লোপিডিয়াব্রিটানিকা'..বইটিতে ইলেক্ট্রনিক্স এবং বিদ্যুৎ বিভাগটি আমার নজর টানলো..
ধীরে ধীরে অনক কিছু আমি শিখে ফেললাম...বিজ্ঞানকে আরোও ভালো ভাবে জানার আগ্রহ বেড়েগেল..

এই দোকানে এক জন শিক্ষিত ভদ্রলোক আসেতেন মাঝে মাঝে..তাঁর নাম বিজ্ঞানী হামফ্রে ডেভি..তিনি আমার বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ দেখে তাঁর বক্তৃতা শোনার জন্য 'রয়াল ইন্টিটিউটেরএকটি টিকিটদিলেন..আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করলাম..
আমি (মাইকেল ফ্যারাডে)কিন্তু সাধারণ শ্রোতা ছিলাম না..আমি হামফ্রে ডেভির আলোচনার প্রধান অংশ গুলি লিখে রাখলাম..
আমি সেই দিনই ভাবলাম 'রয়াল ইন্টিটিউটের'যে কোন ভাবে একটা পদে কাজ করলে জীবন সফল হবে..
যেমন ভাবা তেমনি কাজ..আমি(মাইকেল ফ্যারাডেএকটা চিঠি লিখে ফেললাম স্যার হামফ্রেডেভিকে..সেই চিঠিতে ছিলো..আমার জীবনের লক্ষ্য এবং তাঁর আলোচনার কিছু অংশ...
চিঠি পেয়ে স্যার হামফ্রে ডেভি খুব খুশি হলেন...জবাবি পত্রে তিনি আমাকে তাঁর কাছে আসতে লিখলেন..
তিনি আমার সাথে আলাপ আলোচনা করে বুঝলেন আমি সত্যই বিজ্ঞান অনুরাগী..এরপর তিনি আমাকেগবেষণার কাজে নিলেন...

আমার (মাইকেল ফ্যারাডের)গবেষণার প্রধান বিষয়বস্তু ছিল রসায়ন,তড়িৎ চুম্বক....
আমিই প্রথম চুম্বক শক্তি কিভাবে বিদ্যুৎ শক্তিতে কিভাবে পরিবর্তত হয় তা দেখাই..
আমার আবিষ্কার 'তড়িৎ চুম্বকিয় আবেশ'...

আমার আবিষ্কার বিশ্বে হইচই ফেলে দিল...

বৈদ্যুতিক চুম্বকমোটর হর্ণকলিং বেলটেলিফোন এক্সচেঞ্জের সিগন্যালট্রান্সফরমার সবইআমার আবিষ্কারের ফসল...
আজ ডায়ানামো কিংবা জেনারেটার যা চালিয়ে শক্তিশালীবিদ্যুৎ তৈরি করা হয়....ও ট্রেন ,ট্রাম কলকারখানা সবটারই কিন্তু আমার কৃতিত্ব...
সেই দরিদ্র ছেলেটার ..যে বিলাসিতা কাকে বলে জানতোনা..সেই আমি(মাইকেল ফ্যারাডেআজ আপনাদেরবিলাসিতার পথ খুলে দিলাম..

আজ আমি মেঘনাদ সাহা বলছি


.আজ আমি মেঘনাদ সাহা বলছি
*

ঢাকা জেলার (অখণ্ড ভারতের)শেওড়াতলি গ্রামের বাসিন্দা জগন্নাথ সাহা চেয়েছিলেন বর্ণপরিচয় শেষ করলে তাঁর পঞ্চম শিশুপুত্র...মানে আমাকে(মেঘনাদ সাহা) বসিয়ে দেবেন তাঁর মুদির দোকানে...
আমার মা ভুবনেশ্বরী দেবীরও তাই ইচ্ছে ছিল...মানে আমি মুদির দোকানে বসি...
তার একটা কারণ ছিল...অভাবের সংসারে....কোন রকমে দিন কাটে..বেশি পড়াশুনা শিখিয়ে লাভ কি..??
কারণ আমার পিতা-মাতাকে যথেষ্ট পরিশ্রম করে সংসার চালাতে হতো..
#

আমার(মেঘনাদ সাহা) বয়স তখন পাঁচ বছর....দুচোখ ভরে স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন..লেখাপড়া শেখার কতো ইচ্ছে..
আর আমার বাবা জগন্নাথ সাহা আমাকে বসিয়ে দিলেন মুদির দোকানে..ভাবলেন দুটো পয়সা রোজগার হবে..
#

মানুষ এক ভাবে ........আর উপ-ওয়ালা করেন এক..আমি (মেঘনাদ সাহা)মুদির দোকানে বসলাম ঠিকই,কিন্তু মন পড়ে থাকলো অজানাকে জানার....
আমার দাদা জয়নাথ বুঝতে পারল যে আমার দ্বারা মুদির দোকান চালানো যাবে না....দাদাই প্রথম বাবাকে বলল... ভাইএর মুদির দোকানে থেকে কাজ নেই..ও বরং পড়াশুনা করুক..
বাবাও রাজি হলেন...বাড়ি থেকে ১২-১৩ কিলোমিটার দূরে শিমুলিয়া মিডিল ইংলিশ স্কুল..দাদা জয়নাথ মা-বাবাকে রাজি করিয়ে সেই স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন...
কিন্তু প্রতিদিন ২৪-২৬ কিলোমিটার যেতে আসতে পারবো তো..?এই বয়সে খুব কঠিন হয়ে দাঁড়াল এই সমস্যা..
#

সব অঞ্চলেই তো কিছু ভালো মানুষ থাকেন...শিমুলিয়াতেই ছিল..এমনই একজন পরোপকারী মানুষ ..তিনি আবার পেশায় ডাক্তার...
তিনিই আমার সমস্ত দ্বায়িত্ব নিলেন..আমার দাদা ডাক্তার বাবুর বাড়িতে থাকার সমস্ত ব্যবস্থা করে দিলেন..

আমি(মেঘনাদ সাহা) কিন্তু ডাক্তার বাবুর বাড়িতে শুধু লেখাপড়া নিয়েই থাকতাম না..আমাকে বাসন মাজা,গরু চরানো,খড়-বিচুলি কাটা ও অন্যান্য গৃহস্থলির কাজও করতে হতো..
আমি কিন্তু এতে কিছু মনে করতাম না...

এত কিছুর মধ্য দিয়ে আমি পড়া শুনো চালিয়ে নিয়ে গেলাম..মাইনর পরীক্ষায় ঢাকা জেলায় প্রথম হলাম..বৃত্তিও পেলাম..মাসে ৪টাকা করে চার বছর..এতে পড়াশুনো চালানোর সুবিধা হলো..
এরপর আমি (মেঘনাদ সাহা)ভর্তি হলাম ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে...আমি সেখানে সপ্তম শেণীতে ভর্তি হলাম...
#

আমার মনে আছে সেই সময় চলছে দেশ জুড়ে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন..ইংরেজদের যথেচ্ছ অত্যাচার..প্রতিবাদে দেশজুড়ে আন্দোলন..বিক্ষোভ কারীদের দলে দলে জেলে ভরছে অত্যাচারী ব্রিটিশ সরকার..
আমি (মেঘনাদ সাহা)সেই দিনই মনঃস্থির করলাম আমি এর প্রতিবাদ জানাবো..আমার মতন করে...
প্রতিক্ষা শেষে একটি দিন এলো...সেইদিন আমার স্কুলে এলেন ছোটলাট ব্যাসফিল্ড...স্কুল থেকে ছাত্রদের অভিন্দন জানানোর কথা..কিন্তু আমি সেই দিন স্কুলে যায় নি..আমার কিছু সহপাঠীও আমার সাথে প্রতিবাদ জানিয়ে ছিল..

ইংরেজ সরকার আমাদের মানে প্রতিবাদী ছাত্রদের দেখে চটে গেলেন..কঠিন শাস্তি দিনেল আমাদের..স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিলেন..বন্ধ করে দেওয়া হলো আমার স্কলারশিপ...
এই ঘটনা কিন্তু আমাকে দমাতে পারেনি..বরং বীরত্বের আগুন জ্জ্বলে উঠল...অনেকেই মাফ চেয়ে সেই স্কুলে রয়ে গেল....আমি (মেঘনাদ সাহা)কিন্তু মাথা নত করলাম না..অন্যায়ের সাথে আপোস করলাম না..

কিন্তু আমার এই কাণ্ডে আমার দাদা জয়নাথ বিপদে পড়লেন..তাকে আবার ভাবতে হলো আমাকে কোন স্কুলে ভর্তি করবেন..শেষে আমাকে ভর্তি করলেনকিশোরীলাল জুবিলি স্কুলে..এটি একটি বেসরকারী স্কুল..
আমি যেখানে যাব সেখানেই আমার ফলাফল ভালো হবেই..এটা আমার আত্মঅহংকার নয়..আমি(মেঘনাদ সাহা) বার বার প্রমাণ করি আমার অধ্যাবসায়ের দ্বারা..আমি কিশোরীলাল জুবিলি স্কুলেও বৃত্তি পেলাম..এবং বিনাবেতনে পড়াশুনার সুযোগ পেলাম অতিরিক্ত মেধার জন্য..
#

আমি (মেঘনাদ সাহা)স্কুলে পড়ার সময়ই আমার খুব ইচ্ছা করলো নিখিল বঙ্গ বাইবেল পরীক্ষায় বসার..যেমন ইচ্ছা তেমন কর্ম..পরীক্ষায় প্রথম হলাম..সেই সময়ে একশত টাকা ও একটা বাইবেল উপহার পেলাম..
এর কিছুদিন পরে বাংলায় হইচই পড়ে গেল..জুবিলি স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম হলাম..সব বিষয়ে সকলের থেকে বেশি নম্বর পেলাম..অঙ্কে পেলাম ১০০ তে একশ ..এই অসাধারণ ফলাফলের জন্য পঁচিশ টাকা করে বৃত্তি পেলাম এক বছর ধরে..
#

সত্যি কথা বলতে কি..আমার এই সাফল্যের জন্য একমাত্র আমার দাদা..আমার দাদা শ্রদ্ধেয় জয়নাথ এগিয়ে যদি না না আসত তাহলো আমি কখনোই বিজ্ঞানী মেঘনাদ হতে পারতাম না..তাই এই রকম দাদা খুব কম জনার ভাগ্যে জোটে..আমার জন্ম সার্থক.আমি যেন জম্ম জন্মান্তর ধরে এই রকম দাদা পেয়ে থাকি..
ও ..একটা মস্ত বড় ভুল করে ফেলেছি দাদার কথা ও নিজের কথা বলতে গিয়ে..
আমার জম্ম দিনের কথা বলতে ভুলে গিয়েছি..আমি (মেঘনাদ সাহা) ৬ অক্টোবর ১৮৯৩ সালে জন্ম গ্রহন করি..
শৈশব কলে সবাই খেলা ধূলা করতে ভালোবাসে..পাখি ধরতে ভালোবাসে..ঘুড়ি ওড়াতে ভালোবাসে..আমি (মেঘনাদ সাহা)কিন্তু এই খেলাধূলা ভালোবাসতাম না..
আমার শুধু ভালো লাগত বই পড়তে..তা যে কোন ধরনের বই হোক না কেন..শিশুকাল থেকে বই আমাকে বন্ধুর মত টানত..
#

১৯০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আই.এস.সি. পড়ার জন্য আমি (মেঘনাদ সাহা)ভরতি হলাম ..
সেখান থেকে পাশ করার পর ১৯১১ সালে আমি ভর্তি হই কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ..আমার গাণিতিক পদার্থ বিজ্ঞানের প্রতি বিশেষ আর্কষন ছিল..১৯১৩ সালে গণিত অনার্সে এর ফল প্রকাশিত হল..সত্যেন্দ্রনাথ বসু হলেন প্রথম..আর আমি হলাম দ্বিতীয়..
এরপর ১৯১৫ সালে এম.এস.সি পরীক্ষায় আমি ধরে ফেললাম সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে..মানে দুজনই প্রথম হলাম...প্রথম হলে কি হবে আমাকে অভাবের তাড়নায় সাইকেলে চেপে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিউসনি করতে লাগলাম শ্যমবাজার থেকে ল্যান্সডাউন ভিতর..
১৯১৮ সালে ডি.এস.সি উপাধি লাভ করি..১৯১৯ সালে 'প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ' বৃত্তি পাই..উচ্চতর গবেষনার জন্য ১৯১৯ সালেই ইউরোপ যাই..
নিরলস গবেষণা চালিয়ে জ্যোর্তিবিজ্ঞানে নতুন বিষয় আলোক পাত করেছিলাম তার নাম..'তাপীয় আয়নন তত্ত্ব'..এই আবিষ্কারই আমাকে দেশ বিদেশের খ্যাতি এনে দেয়..
দেশে ফিরে এসে ১৯২১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হই...১৯২২-১৯৩৮ এই সময় কালে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতাম..
আবার ১৯৩৮ সালেই কলকাতা ফিরে এসে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান কলেজের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক হলাম..
#
আমি (মেঘনাদ সাহা)দুটি প্রতিষ্ঠান'ইনস্টিটিউন অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্স' এবং 'ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যাল্টিভেশন অব সায়েন্স' এর কর্ণধার ছিলাম...বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীকে শাসন করে তাকে মানুষের কল্যানমূলক কাজে লাগালো থেকে শুরু করে দামোদর পরিকল্পনাটি আমারই কীর্তি..
আমি(মেঘনাদ সাহা) ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পরলোকে গমন করি...........
Blogger Widgets